চৌষট্টি যোগিনীর তাৎপর্য

আমরা তন্ত্র শাস্ত্রে 64 যোগিনীর উল্লেখ পাই। সনাতন ধর্মের যতোগুলো গুরুত্বপূর্ণ দেবী রয়েছে তারা প্রত্যেকেই এই 64 যোগিনীর সদস্যা। যদিও এখন অনেকেই এদের অনেকের নাম শোনেননি।

সময়ের সাথে এবং একাধিক বৈদেশিক আক্রমণের ফলে এদের মন্দির এবং উপসনাস্থল আজকে সঙ্কুচিত। এই দেবীদের অনেকেরই আজ আর অস্তিত্ব নেই। তবে 64 যোগিনী মন্দির ভারতে কয়েকটি রয়েছে। এই সব মন্দিরের গঠন ভারি অদ্ভুত। তথাকথিত সনাতন ধর্মের মন্দিরের সাথে এদের মন্দিরের মিল তেমন নেই।

একটি বিষয় লক্ষণীয় যে এই চৌষট্টি যোগিনীর সদস্যাদের মধ্যে দশ জন মহাবিদ্যাও রয়েছে। এই চৌষট্টি যোগিনীরা আদতে পরমেশ্বরের শক্তির রুপান্তর। এদের মধ্যে আট জন প্রধানা বাকিরা গুনিতক। একটু একটু ব্যাখ্যা করলে বিষয়টি বোঝা যাবে।

প্রথমে পরমেশ্বর কে বোঝা দরকার। পরমেশ্বর বা ঈশ্বর এমন একটি সত্ত্বা যার ওপরে জগৎ এর অস্তিত্ব। একটি জগৎ নয় বদলে 64 টি জগৎ যাকে এখন মাল্টিভার্স বলা হচ্ছে। এই 64 যোগিনীরা এক একটি জগতের আদী জননী। ঈশ্বর হলো সময়ের ব্যাপ্তি। সময় ছাড়া সৃষ্টি হতে পারে না।

চৌষট্টি যোগিনীরা আসলে কারা?
এরা ঈশ্বরের শক্তি থেকে সৃষ্ট নারী শক্তি যাদের মধ্যে ঈশ্বরের শক্তির চার ভাগের এক ভাগ বন্টন করা হয়েছে।

কিন্তু কেন এই বন্টন?
ঈশ্বর তাঁর সৃষ্টি তে ঘুরে বেড়ান। কিন্তু বিশালকায় ঈশ্বর যদি মানব অবতারে আসেন তাহলে কি প্রকারে খুদ্র মানব দেহে ঈশ্বরের সমস্ত শক্তি থাকবে। এছাড়া ঈশ্বর হলো অবিনশ্বর তার জন্ম নেই মৃত্যু নেই। সেই হিসেবে মানব শিশুর দেহ ঈশ্বরের সম্পূর্ণ শক্তি বহন করতে সক্ষম নয়।

অবতারের একটি বিশেষ বয়সে তার শক্তিরা তার কাছে ফিরে আসে। কিন্তু এই ব্যখ্যার তো একটা আধ্যাত্মিক প্রমাণ পৃথিবীতে থাকা উচিত। অবশ্যই রয়েছে সেই সূত্র। আধ্যাত্মিক জ্ঞান অনুযায়ী একটি মানব শরীরে চৌষট্টি টি আত্মা থাকতে পারে। এজন্য আধ্যাত্মিক পরিভাষায় মানব শরীরকে আত্মার জাহাজ বলা হয়।

এই চৌষট্টি টি ঘর বানানো হয়েছে এই চৌষট্টি যোগিনীদের কথা মাথায় রেখে। যখন পরমেশ্বরের অবতারের মধ্যে তার শক্তিরা চৌষট্টি যোগিনী রুপে ফিরে আসে এবং অবতার পরমেশ্বরে পরিনত হন।

তাহলে আসল পরমেশ্বর কোথায় এবং কি অবস্থায় রয়েছেন। এই বিষয়টি আগেই ব্যাখ্যা করেছি পরমেশ্বর কে এবং কি। অর্থাৎ চরাচর এই প্রকান্ড মহাশুন্য পরমেশ্বরের শরীরের উপর স্থিত। তার মধ্যে এই জগৎ গুলি রচিত হয়েছে। পরমেশ্বর আদতে একটি প্রকান্ড শক্তি ক্ষেত্র যার কোন সীমারেখা নেই। তার একটি দৈব রুপ রয়েছে সেটা দেবাদিদেব মহাদেব। সেই রুপ একটি প্রকান্ড দৈত্যের ন্যায় বৃহৎ। এখন সেই রুপ গভীর নিদ্রায় শায়িত, এবং প্রাণ হীন।

তাহলে এই বিষয়টি পরিষ্কার হচ্ছে যে পরমেশ্বরের মানব অবতার প্রকান্ড শক্তি ক্ষেত্রের সাথে সরাসরি সংযুক্ত। ফলে সে সর্ব শক্তিমান, মৃত্যুঞ্জয়ী চিরঞ্জীবী।

314 reads